২ সেপ্টেম্বর রাজধানী দিল্লি থেকে জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো আত্মহত্যার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। জানিয়েছে ২০১৯ সালে কৃষিক্ষেত্রে আত্মঘাতী কৃষক ও খেতমজুরের মিলিত যোগফল ১০২৮১। আত্মঘাতী দিনমজুরের সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৬৩। এ অবশ্য সরকারি হিসেব নিকেশ। যোগ বিয়োগ গুণ ভাগে সময় ও ক্ষেত্র অনুযায়ী নবতম সূত্রের উদ্ভাবন ঘটে। বাড়ে কমে লাফিয়ে চলে।
আত্মহত্যা এখানে ক্রাইম। কেননা এই তথ্য প্রকাশ করেছে The National Crime Records Bureau, যাদের কাজ অপরাধের তথা অপরাধীর সুরতহাল করা। আত্মহত্যার এই ক্রাইমটি যারা করেছেন তারা মূলত আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের সমষ্টিমাত্র। কেউ-কেউ কোনো-কোনো তারা ওরা জন্মে থেকে নথিবদ্ধ হয়েই চলে। আত্মবিনাশের খবরটিও নিবদ্ধীকরণ হয় সরকারের খাতায় এবং দৈনিক সংবাদপত্রের ছয় অথবা সাত নম্বর পাতায়। প্রথম পাতায় তখন #Justice for Sushant Singh Rajput, সিবিআই, বিহার-মহারাষ্ট্র সরকারের টানাপোড়েন, সুগার ড্যাডি মহেশ, কমতি ফলোয়ার কর্ণ জোহর, ডাইনি রিয়া। অথবা ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস, আত্মনির্ভরতা, সীমান্তে অশনিরেখা, কোভিডে সুস্থতার হারে সোনালি রেখা।
পেশাগত অনিশ্চয়তা অথবা ঋণজর্জর হীনম্মন্যতার জীবন থেকে হতাশা আর সেই অবসাদ ঠেলে দিচ্ছে আত্মহত্যায় — নিন্দুকদের এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র কর্তৃক ভর্ৎসিত, অস্বীকৃত। পারিবারিক অশান্তি, অসুস্থতা, মানসিক যন্ত্রণার ব্যক্তিগত অসুখের শতাংশে মজুর কৃষকের আত্মনাশকে খোপবন্দী করে রাষ্ট্র। ওদের আত্মহত্যা চোখে পড়ে, ক্ষুধাসূচকে ১০২ নম্বরে (১১৭ দেশের হিসেবে) দেশের অবস্থানের কথা বারবার উত্থাপিত হয়, অথচ আম্বানি সাহেবের কর্মযোগের বেলায় পরশ্রীকাতর কেন বাপু? লকডাউনে কোন্ মায়াবলে সম্পত্তি বাড়ে, ঝুলিতে বিগবাজার পোরে — ভাবো ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস্ করো। উনি, অ্যামাজন কর্তা, ওঁনারা, তেঁনারা তো ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের মতো স্বয়ম্ভু। তোমাদের কোন পাকা ধানে মই দিয়েছেন শুনি!
মরেছে ওরা মরেছে। কি এমন আকাশ ভেঙে পড়েছে। মড়াকান্নার কি আছে। বাদশা আছে, জ্যাকলিন আছে, বড়োলোকের বেটি আছে। আইপিএল আসছে। ভ্যাকসিন আসছে। বানবন্যায় আকাল মড়কে কতই তো মরে। None of the none। মজুর কৃষকের আত্মহত্যায় আদিখ্যেতা দেখানোর কী আছে! যত্তসব ঋত্বিকের মেলোড্রামাটিক চ্যালা।
তাই গান শোনাবারই বা কি আছে। কোথাকার কোন জামাইকান বব মার্লি, সেই কবে ১৯৭৩ সালে ডাক দিলেন —
Get up, stand up : stand up for your rights!
Get up, stand up : don’t give up the fight! …
হোক না বার্লিন ওয়াল ভাঙার গান, রোডেসিয়ার বিপ্লবীকণ্ঠে ফেরা গান, কালো মানুষের অধিকার বুঝে নেওয়ার, অবরোধে নিপীড়িতের উঠে দাঁড়ানোর গান। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে দেশের তরক্কি তো ঈর্ষণীয়। প্রতিবছর EPIC-এ AADHAAR-এ কত শত হাজার লক্ষ ইউনিক কোড বসে চলে ক্রমাগত। হাজার পঞ্চাশ আত্মঘাতী ডিলিটেড ভোটারে কী আসে যায়!
তবুও নিশ্চিন্তে ঘুমোনো যাচ্ছে কই। যুদ্ধটা হারতে হারতেই অনেক সময় জিতে যায় যে। ওরা তারা। সংখ্যায় পরিচিত মানুষ তখন আত্মপরিচিতির শক্তি খুঁজে পায় মার্লির গানে —
So now we see the light (what you gonna do?)
We gonna stand up for our rights!
অবশ্য, সমীকরণ দু তরফেই অত সোজা নয়…
অভিক্ষেপ-এ আজ বব মার্লি
ইউ-টিউব লিঙ্ক : https://www.youtube.com/watch?v=zYAhJr4gAOQ