শোভা সিংহের বিদ্রোহ : বিচার বিশ্লেষণ

বিশ্বনাথ কুণ্ডু


অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অধিকার প্রাচীন ভারতে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু সেরূপ বিদ্রোহের উদাহরণ প্রাচীন ভারতে বিশেষ পাওয়া যায় না। আদি মধ্যযুগের কৈবর্ত বিদ্রোহকে অনেকে নিম্নবর্গের বিদ্রোহ হিসাবে চিহ্নিত করেন। তা নিয়েও বহু বিতর্ক আছে। ওই বিদ্রোহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া যায় না। সুলতানি যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সময়কালে শ্রমিক-কৃষক সাধারণ মানুষের বিদ্রোহের অনেকগুলি বিবরণ পাওয়া যায়। সেগুলি থেকে নিম্নবর্গের মানুষের বিদ্রোহকে আলাদাভাবে খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন ইতিহাস চর্চাকারীদের মধ্যে আধুনিক যুগেই দেখা যায়। নিম্নবর্গের মানুষের বিদ্রোহ, আন্দোলন, সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ, তাদের সামাজিক অবদান আধুনিক যুগেই ইতিহাস চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা ঘরাণা’র (সাবলটার্ন স্টাডিজ) মাধ্যমে। ভারতে ইতিহাস চর্চায় এ ধারা গড়ে ওঠে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক রণজিৎ গুহের দ্বারা। এ ধারা প্রথমে প্রধানত কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। এখানে মার্কসবাদী অর্থনৈতিক ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে লক্ষ্য থাকে তলা থেকে ইতিহাসকে দেখার (হিস্ট্রি ফ্রম বিলো)।

এখানে বাংলার চেতুয়া-বরদার রাজা তথা জমিদার শোভা সিংহের বিদ্রোহকে নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা ধারানুসারে মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি মিশিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হবে। সেজন্য নিম্নবর্গ সম্পর্কে দু’চার কথা বলে নেওয়া দরকার। অত্যাচারিত-নিপীড়িত নিম্নবর্গের মানুষের যন্ত্রণাময় অবস্থান ও জীবনযাপন ভারতের ইতিহাসে প্রাচীন যুগ থেকেই পরিলক্ষিত হয়। বৈদিক যুগে আর্য সমাজে অনার্যেরা দাস-দস্যু-শত্রু-রাক্ষস-অসুর ইত্যাদি নামে ঘৃণিত হয়ে শূদ্রবর্ণ রূপে অভিহিত হয়। সমাজের সবচেয়ে নীচের তলায় স্থান দেওয়ার জন্য ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পুরুষ সূক্তে প্রক্ষিপ্ত অংশ প্রবিষ্ট করানো হয়। সেখানে বলা হয়— আদি পুরুষ ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, ঊরু থেকে বৈশ্য, আর পা থেকে শূদ্রের উৎপত্তি হয়েছে। উপরের তিনবর্ণের সেবা করাই হল নিম্নবর্ণ শূদ্রের কর্তব্য। গায়ের রঙ কালো হওয়ায় তাদের বলা হত ‘কৃষ্ণত্বাচ্’, নাক চ্যাপ্টা বলে বলা হত ‘অনাস’। তারা হল অধিকারবিহীন, অশিক্ষিত, নিন্দিত এক মানব গোষ্ঠী। গায়ে গতরে খেটে খাওয়া শূদ্রেরা নিম্নবর্ণ নাম ধারণ করে পরে নিম্নবর্গে পরিণত হয়।

বাংলায় আর্য আগমনের পর আর্য সংস্কার ও বর্ণাশ্রম প্রথা বাংলার সমাজে ধীরে ধীরে প্রচলিত হয়। বাংলার আদি অধিবাসী ছিল নিষাদ, কিরাত, ব্যাধ, শবর প্রমুখেরা। তারা এবং অন্যান্য খেটে খাওয়া মানুষ তখন শূদ্র তথা নিম্নবর্ণে পরিণত হয়। পরে তারাই নিম্নবর্গের অন্তর্গত হয় বলা চলে।

মোগল বাদশাহ আকবরের আমলে তাঁর রাজস্বসচিব তোডরমল রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাকে ১৯টি সরকার ও ৬৪২টি (মতান্তরে ৬৮৯টি) মহালে বিভক্ত করেন। তখন হুগলি জেলার অন্তর্গত গোঘাটের মান্দারন একটি সরকারে পরিণত হয়। এই সরকারের মধ্যে ছিল ষোলোটি মহাল। সরকার মান্দারনের অন্তর্গত ছিল মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের নিকটবর্তী চেতুয়া ও ঘাটালের নিকটবর্তী বরদা এই দু’টি মহাল। সপ্তদশ শতাব্দীর অন্তিমকালে এই দু’টি মহালের জমিদার বা তালুকদার শোভা সিংহ মোগল বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করে ‘রাজা’ উপাধি নেন। তিনি পরিচিত হন ‘চেতুয়া-বরদার রাজা শোভা সিংহ’ হিসাবে।

শোভা সিংহসহ তাঁর পূর্ববর্তী ছয় পুরুষ বাংলার অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পূর্ব পুরুষেরা চব্বিশ পরগণা থেকে চেতুয়া-বরদায় আসেন। কোনো কোনো আঞ্চলিক ঐতিহাসিক তাঁর পূর্ব পুরুষরা উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে এসেছিলেন বলে মত প্রকাশ করেন। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শোভা সিংহের পিতার নাম দুর্জয় সিংহ। উত্তরাধিকার সূত্রে শোভা সিংহ চেতুয়া মহাল পেয়েছিলেন। তারপর বরদা মহাল তিনি দখল করে নিজ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।

শোভা সিংহের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহ সংঘটিত হয় তা ঠিক কোথায় ও কবে শুরু হয় সে সম্পর্কে তথ্যের অপ্রতুলতা আছে। বিভিন্ন তথ্য ও চন্দননগরের ফরাসিদের পত্র থেকে জানা যায় যে, ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে বিদ্রোহ শুরু হয় হুগলিতে। আবার কারও কারও মতে বিদ্রোহ শুরু হয় বর্ধমানে। বিদ্রোহের প্রকাশ ওই সময় হলেও তার বাতাবরণ হয়তো আগে থেকে তৈরি হয়েছিল।

বিদ্রোহের কারণ সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে দু’চার কথা বলতে হয়। মোগল বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের অধীনে বড়ো ইজারাদার ছিলেন বর্ধমানের কৃষ্ণরাম রায়। শোভা সিংহ ছিলেন তাঁর অধীনে একজন তালুকদার বা জমিদার। শোভা সিংহ জমিদারীর একটা অংশকে তাঁর নিজস্ব খাস জমি বলে দাবি করেন। সম্ভবত ওই জমির রাজস্ব তিনি কৃষ্ণরাম রায়কে দিতে রাজি ছিলেন না। কৃষ্ণরাম এ আচরণ মানতে পারেননি। বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এভাবে ইজারাদারী চলছিল। বাদশাহ ঔরঙ্গজেব তাতে বাধা দেননি। তাঁর দেওয়ানরাও এ প্রথায় সায় দিয়েছিল। সপ্তদশ শতকের শেষদিকে বাংলার জমিদাররা এভাবে তাঁদের জমিদারী এলাকা বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন। শোভা সিংহ তার ব্যতিক্রম নয়। এ জন্যই বড়ো ইজারাদার কৃষ্ণরামের সঙ্গে তাঁর বিবাদ-সংঘাত বাধে। শোভা সিংহ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে বর্ধমানের ইজারাদারী পাবার স্বপ্ন তাঁর মনে ছিল। সে স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিদ্রোহের পথ বেছে নেন। এ কারণটিকে অনেকে বেশি গুরুত্ব দেন না। ঐতিহাসিক গৌতম ভদ্র বিদ্রোহের কারণ হিসেবে বাকি কর আদায়ের জন্য বর্ধমানের ইজারাদার কৃষ্ণরাম রায় কর্তৃক পরোয়ানা জারি ও চাপ সৃষ্টিকে দায়ী করেন। এছাড়া অপমানজনক জিজিয়া কর আদায়, নজর পেশকাশের অধিকার হারানো ইত্যাদি কারণকে আঞ্চলিক ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেন। বাংলার স্বাধীনচেতা জমিদাররা এ কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন। শোভা সিংহ তাঁদের মধ্যে একজন। বৃদ্ধ ঔরঙ্গজেব নানা বিদ্রোহে বিব্রত ছিলেন। শোভা সিংহ সেই সুযোগে ইজারাদার কৃষ্ণরামকে আক্রমণের মধ্যে দিয়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন।

এবার সমগ্র বিদ্রোহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা যাক। বর্ধমানের ইজারাদার কৃষ্ণরাম একবার শোভা সিংহের এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছিলেন। এই অজুহাতে শোভা সিংহ চন্দ্রকোণার জমিদার রঘুনাথ সিংহ ও উড়িষ্যার আফগান সর্দার রহিম খানের সাহায্য নিয়ে বর্ধমান আক্রমণ করেন। যুদ্ধে কৃষ্ণরাম রায় পরাজিত ও নিহত হন (১৬৯৫ খ্রিঃ)। শোভা সিংহ কৃষ্ণরামের অর্থ ও সম্পদ লুঠ করেন এবং কৃষ্ণরামের স্ত্রী ও কন্যাদের বন্দী করেন। ওই সময় কৃষ্ণরামের পরিবারের ১৩ জন মহিলাসহ মোট ২৫ জন মারা যান। কোনো কোনো আঞ্চলিক ঐতিহাসিক মনে করেন বর্ধমান জয় করে শোভা সিংহ ‘রাজা’ উপাধি নিয়েছিলেন। এ সময় বহু মানুষ শোভা সিংহের বিদ্রোহে যোগ দেয়।

এরপর শোভা সিংহ গড়মান্দারন দখল করেন। ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি হুগলি লুণ্ঠন করেন। শোভা সিংহের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে হুগলির মোগল ফৌজদার নুরুল্লা খান পলায়ন করেন। ওলন্দাজদের কাছে বাধা পেয়ে শোভা সিংহ বর্ধমানে চলে যান। তিনি গঙ্গার পশ্চিম দিকে ও হুগলির উত্তর দক্ষিণে ১৮০ মাইল বিস্তৃত এলাকায় কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে প্রচুর আফগান সেনা নিয়োগ করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কর আদায় করতে থাকেন। শোভা সিংহ বর্ধমান চলে গেলেও বিদ্রোহী সেনার একটি অংশ হুগলি ও চন্দননগরে মোগল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে। ইংরেজ ও ফরাসি কোম্পানি গোপনে শোভা সিংহের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে রুখে দাঁড়ায়। অবস্থা বেগতিক দেখে বিদ্রোহীরা পালিয়ে যায়। বর্ধমানে শোভা সিংহ কৃষ্ণরামের বন্দিনী কন্যার উপর অত্যাচার করতে গেলে উঁচু স্থান থেকে পড়ে মারা যান। এ বিষয়ে নানা বিতর্ক আছে। শোভা সিংহের মৃত্যুর তারিখ জানা যায়নি।

শোভা সিংহ যে বিদ্রোহ শুরু করেন তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়নি। তারপর বিদ্রোহের হাল ধরেন শোভা সিংহের কাকা মহা সিংহ ও আফগান সর্দার রহিম খান। একদম শেষের দিকে নেতৃত্ব দেন শোভা শিংহের ভাই হিম্মত সিংহ। তাঁরা বহু জমিদারকে দলে টানেন ও দিকে দিকে লুটপাট চালান। হুগলি, গোবিন্দপুর, সুতানুটি ইত্যাদি এলাকায় তারা লুটপাট চালান। পনেরো মাস কেটে গেলেও মোগল সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহ দমনের কার্যকরী চেষ্টা করা হয়নি। হুগলির মোগল ফৌজদারের অনুরোধে ইংরেজরা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রণতরী পাঠালে বিদ্রোহীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু তারা সৈন্য সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খণ্ডযুদ্ধ চালায়। এদিকে রহিম খানের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা মকসুদাবাদ বা মুর্শিদাবাদ লুঠ করেন। সেখানে কোনো মোগল ফৌজ ছিল না। বিদ্রোহীরা মালদহ দখল করে ও রাজমহল পর্যন্ত আক্রমণ চালায়। তাদের অশ্বারোহীর সংখ্যা বারো হাজার ও পদাতিকের সংখ্যা ত্রিশ হাজারে পৌঁছেছিল। ১৬৯৮ খ্রিস্টাব্দের পর বিদ্রোহের গতি কমে যায়, কেননা বাংলার সুবাদার আজিম-উস-শানের সঙ্গে যুদ্ধে রহিম খান ও মহা সিংহের মৃত্যু হয়। ১৭০৩-১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে আজিম-উস-শান বিদ্রোহ সম্পূর্ণ দমন করেন। হিম্মত সিংহ জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

শোভা সিংহ নিম্নবর্গের মানুষ ছিলেন কিনা, কিংবা তাঁর বিদ্রোহকে নিম্নবর্গের বিদ্রোহ বলা যাবে কিনা এখন সে বিচারে আসতে হবে। ইতিহাস আলোচনায় কিংবদন্তি, জনশ্রুতি ও প্রবাদবাক্যের গুরুত্ব আছে। চেতুয়া-বরদা, রাধানগর এলাকায় জনশ্রুতি হল শোভা সিংহ জাতিতে বাগদি ছিলেন। সুতরাং তাঁর বিদ্রোহ হল ‘বাগদি বিদ্রোহ’ অর্থাৎ ‘নিম্নবর্গের বিদ্রোহ’। কিন্তু শোভা সিংহ জাতিতে বাগদি ছিলেন কিনা সে বিষয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে।

শোভা সিংহ বর্ধমানের ক্ষত্রিয় রাজা কৃষ্ণরাম রায়ের কাছ থেকে বার্ষিক বাইশ হাজার টাকায় জমি ইজারা নিয়েছিলেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক একথা তোলেন যে, ক্ষত্রিয় না হলে শোভা সিংহ জমি ইজারা পেতেন না। বাগদি জাতির লোকেরা নিজেদের ‘বর্গক্ষত্রিয়’ বা ‘ব্যগ্রক্ষত্রিয়’ বলে পরিচয় দেন। বর্গ কিংবা ব্যগ্র শব্দটি বাদ গেলে ক্ষত্রিয় শব্দটি থাকে। সেক্ষেত্রে শোভা সিংহ বাগদি জাতির হলেও হতে পারেন। তবে বর্গক্ষত্রিয় কিংবা ব্যগ্রক্ষত্রিয় শব্দ থেকে কীভাবে বাগদি শব্দটি আসে তা বোধগম্য নয়। অনেক আঞ্চলিক ঐতিহাসিক শোভা সিংহকে বাগদি জাতির অন্তর্ভুক্ত বলতে রাজি নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে শাসন ক্ষমতা অধিকার করলে অনার্যকে ক্ষত্রিয় কিংবা ব্রাত্য ক্ষত্রিয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়ার উদাহরণ প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে আছে। অনেকে বহু যুক্তিজাল বিস্তার করে শোভা সিংহকে ক্ষত্রিয় প্রমাণ করে তবেই ক্ষান্ত হন। তাঁরা প্রমাণ করতে চান নিম্নবর্গের মানুষের বুদ্ধি, বীরত্ব ও রাজ্য শাসনের ক্ষমতা থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে শোভা সিংহের বৈবাহিক সম্পর্কের উল্লেখ করা হয়। তাঁরা বলেন যে, চন্দ্রকোণার তালুকদার (রাজা) রঘুনাথ সিংহের ভগ্নী চন্দ্রাবতীকে শোভা সিংহ বিবাহ করেন। শোভা সিংহ বাগদি হলে তৎকালীন জাতপাতের কঠোরতার যুগে ওই বিবাহ সম্পন্ন হতে পারত না। এই যুক্তি ধরলে এটাও বলতে হয় যে চন্দ্রপ্রভার গর্ভজাত কন্যা চন্দ্রাবতীর সঙ্গে বিষ্ণুপুরের রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহের বিবাহ হয়। বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজারা জাতিতে বাগদি ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। জনশ্রুতিকে গুরুত্ব দিলে এক্ষেত্রে জাতে জাতে বিবাহ হয়েছে বলা যায়। প্রকৃতপক্ষে এসব বিবাহে জাতপাতের প্রশ্ন বড়ো হয়ে ওঠে না। বড়ো হল মর্যাদা ও ক্ষমতা। ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ আছে যেখানে সুলক্ষণা রূপবতী কন্যাকে বিবাহের ক্ষেত্রে শাসক রাজারা জাতপাতের বিচার করেন নি। যে সমস্ত আঞ্চলিক ঐতিহাসিক শোভা সিংহের পূর্বপুরুষ উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে বাংলায় এসেছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন, তাঁরা সম্ভবত শোভা সিংহের ক্ষত্রিয়ত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁদের মতের পক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নেই।

গবেষক রোহিনীনাথ মঙ্গলের মত যে, প্রাপ্ত তথ্য থেকে শোভা সিংহের ক্ষত্রিয়ত্বের দিকে পাল্লা ভারী। বিদ্রোহের অপর দু’জন সাহায্যকারী রঘুনাথ সিংহ ও রহিম খান বাগদি ছিলেন না। বাগদি জাতির মানুষ সাহসী, লড়াকু ও স্বাধীনতাপ্রিয় হয়। শাসকের অনুগত হয়ে কাজ করার অনেক নজির তারা সৃষ্টি করেছে। মোগলদের দ্বারা কিংবা বর্ধমানের ইজারাদার কৃষ্ণরামের দ্বারা যদি তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হত, তারা আরও ব্যাপক সংখ্যায় বিদ্রোহে অংশ নিত। শুধু চেতুয়া-বরদা নয়, পার্শ্ববর্তী বগড়ি, বিষ্ণুপুর, চন্দ্রকোণা, বর্ধমান, কর্ণগড় ইত্যাদি স্থানের বাগদি জাতির লোকেরা ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করত। কিন্তু তা হয়নি। সেখানকার বাগদিদের মধ্যে থেকে কোনো নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। তাছাড়া মোগলরা বাগদিদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। রোহিনীবাবু হিসাব নিকাশ, পরিসংখ্যান তৈরি করে দেখিয়েছেন চেতুয়া-বরদার সমগ্র বাগদি জাতির সামান্য সংখ্যক মানুষ বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল। অর্থাৎ তিনি প্রমাণ করতে চেয়েচেন যে শোভা সিংহের বিদ্রোহ ‘বাগদি বিদ্রোহ’ ছিল না। জিজিয়া কর আদায়, বাকি থাকা খাজনা আদায়, পেশকাশি জমিদারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার দ্বারা বাগদিদের কোনো ক্ষতি হয়েছিল বলে মনে হয় না।১০

মনে রাখতে হবে শুধু বাগদিরা নয়, শোভা সিংহের বিদ্রোহে দুলে, মাঝি, মেটে প্রমুখ নিম্নবর্গের খেটে খাওয়া মানুষ যোগ দিয়েছিল। শুধু শোভা সিংহের বাহিনী নয়, রঘুনাথ সিংহের বাহিনীতেও এই শ্রেণির মানুষ ছিল। এই বিদ্রোহ শুধু চেতুয়া-বরদা নয়, হুগলি, চন্দননগর, বর্ধমান এবং পরে সুতানুটি, গোবিন্দপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এমনকি রাজমহলেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার নিম্নবর্গের মানুষ তো বটেই জমিদাররাও যোগ দিয়েছিল। মনে রাখতে হবে তৎকালীন যুগে সমস্ত মানুষকে একসঙ্গে বিদ্রোহে সামিল করা সহজ ছিল না। আর নিম্নবর্গের বিদ্রোহের নেতৃত্বকে নিম্নবর্গের হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষিত বিচক্ষণ উচ্চবর্গের মানুষের নেতৃত্বের উদাহরণ ইতিহাসে আছে। তাহলে মোটকথা এই দাঁড়াল যে শোভা সিংহের বিদ্রোহ জমিদার বা তালুকদারদের বিদ্রোহ যাতে খেটে খাওয়া নিম্নবর্গের মানুষ যোগদান করেছিল। বর্ধমান আক্রমণের পূর্বেই শোভা সিংহ কারিগর ও নিম্নবর্গের কৃষকদের সাহায্য নিয়েছিলেন।১১

গবেষক রোহিনীনাথ মঙ্গল আরও দেখিয়েছেন যে শোভা সিংহের বিদ্রোহকে কৃষক বিদ্রোহ বলার কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঔরঙ্গজেবের সময় চেতুয়া-বরদা মহালে কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়ার কোনো নজির নেই। সে সময় করভার বেশি ছিল না। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কর আদায়ের জন্য দমন পীড়ণও ছিল না। বরং শোভা সিংহ ও রঘুনাথ কৃষকদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করতেন, অথচ মোগল বাদশাহের রাজস্ব তারা বাকি রাখেন। যাইহোক, শোভা সিংহের বিদ্রোহ কোনো মতেই ঊনবিংশ শতাব্দীর ওয়াহাবি-ফরাজি, সাঁওতাল-কোল কিংবা নীল বিদ্রোহের মতো কৃষক বিদ্রোহ ছিল না। তৎকালীন মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনায় সমাজের কৃষকগণের পক্ষে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করা সম্ভব ছিল না। সুতরাং শোভা সিংহের বিদ্রোহ গণবিদ্রোহ হয়ে উঠতে পারেনি। অধ্যাপক প্রণব রায়ের মতে ‘ঘাটাল মহকুমায় কিছু কিছু বিক্ষোভ-বিদ্রোহ হয়েছিল, ঔরঙ্গজেবের বশংবদ বর্ধমানরাজ কৃষ্ণরামের বিরুদ্ধে শোভা সিংহের বিদ্রোহ এই অঞ্চলে প্রথম আঞ্চলিক আন্দোলন বলা যায়। তবে সেটাকে বিদ্রোহ অ্যাখ্যা দেওয়া যায় না।১২

শোভা সিংহের বিদ্রোহের কোনো জাতীয়তাবাদী চরিত্র ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর বিদ্রোহের নেতৃত্ব চলে যায় আফগানদের হাতে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংরেজ শাসনে ইউরোপীয় প্রভাবে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। এই নবজাগরণের ফলই হল স্বদেশপ্রেম, স্বাধীনতাচেতনা ও জাতীয়তাবোধ। এই চিন্তাভাবনা শোভা সিংহের সময় সম্ভব ছিল না। এজন্য অধ্যাপক বিনয় ঘোষ বলেন যে, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ বলতে আমরা আজকাল যা বুঝি শোভা সিংহের আমলে তার অস্তিত্ব ছিল না। তাই তার বিদ্রোহকে জাতীয়তাবাদী কৃষক বিদ্রোহ বলা যায় না১৩

এবার মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে শোভা সিংহের বিদ্রোহকে দেখা যাক। শিল্পবিপ্লবের বহু পূর্বে শোভা সিংহের আমলে বাংলায় বৃহৎ শিল্প বলে কিছু ছিল না। শুধু সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে লবণ তৈরির কাজ নবাব বাদশাহদের পারিবারিক প্রয়োজনে গড়ে তোলা হয়েছিল। এছাড়া বয়ন শিল্প কারখানা কিছু গড়ে উঠেছিল। সেইসঙ্গে বিদেশি বণিকদের চেষ্টায় গড়ে ওঠা কিছু কারখানা ছিল। সেসব ক্ষেত্রগুলিতে সামান্য সংখ্যক শ্রমিক রুজিরোজগারের জন্য কাজ করত। কারিগর শ্রেণি কুটির শিল্পে নিয়োজিত ছিল। অনেক মানুষ পারিবারিক পেশা ও কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। এরকম ছোটোখাটো সাধারণ শিল্পোদ্যোগে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণিচেতনা ও শ্রেণিগত ঐক্য গড়ে ওঠা সম্ভব ছিল না। কৃষকদের মধ্যেও কোনো সংঘবদ্ধ চিন্তাচেতনা ছিল না। তবে এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে জমিদারদের মধ্যে একটা অস্থায়ী সাধারণ ঐক্য গড়ে উঠতে দেখা যায়। বাংলায় আধা-সামন্ততান্ত্রিক ধরণের অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল, যার ভিত্তি ছিল গ্রাম। গ্রামের মানুষ ছিল সংস্কার-কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এবং ধর্মভীরু। তারা ছিল অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাদের চাহিদা ও সুযোগ সুবিধা ছিল সামান্য। গ্রামগুলি মোটামুটি ছিল আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মনির্ভর। উৎপাদনের উপাদান ছিল অতি সাধারণ ও মধ্যযুগীয়। জমিতে কৃষকের মালিকানা থাকলেও অনেক সময় তা হাতছাড়া হত। ভূমিহীন খেটে খাওয়া মজুর শ্রেণিও ছিল। এসব নিয়েই গড়ে উঠেছিল বাংলার ছোটো ছোটো জমিদারী এলাকা।১৪

প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে গ্রামের মানুষ মানতে যেমন বাধ্য ছিল তেমনই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ক্ষমতা বদলের ক্ষেত্রে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিত না। জাতধর্মের উপর আঘাত এলে তারা সাময়িকভাবে ঐক্যবদ্ধ হবার চেষ্টা করত। সমগ্র জনসমাজের মঙ্গলের জন্য বৃহৎ আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ কিংবা আন্দোলন করার চিন্তা গ্রামবাসীর মধ্যে ছিল না। বাংলায় এমন কোনো সুসংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি ছিল না যারা পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেবে। বাংলায় মধ্যযুগীয় পুরাতন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। উচ্ছৃঙ্খল অভিজাত ইজারাদার-তালুকদার-জমিদার শ্রেণি আড়ম্বরপ্রিয় ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মোগল দরবার ও বিদেশি বণিকদের আদব কায়দা তাদের প্রভাবিত করত।১৫ যাইহোক, বৃহত্তর অর্থে শোভা সিংহের বিদ্রোহকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমিদার শ্রেণির অসন্তোষ বলা যায়।

মধ্যযুগীয় কোনো কবি শোভা সিংহের জয়গান করেননি। তাঁকে নিয়ে কোনো মঙ্গলকাব্য রচিত হয়নি। তিনি ছিলেন বাংলার উচ্চাঙ্ক্ষী এক জমিদার, যিনি জমিদারী সম্প্রসারণের জন্য বিদ্রোহ সংগঠিত করেন। তাঁর মধ্যে লুণ্ঠনপ্রবণতা, নিষ্ঠুরতা ও লাম্পট্য থাকলেও তাঁর সাহসিকতা, নিষ্ঠা, সাংগঠনিক ক্ষমতা ও সশস্ত্র বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতাকে স্বীকার করতেই হয়। এজন্য বাংলার ইতিহাসে তিনি উল্লেখয্যেগা ব্যক্তিত্ব।


সূত্রনির্দেশ :

১। সুনীল চট্টোপাধ্যায়, ‘প্রাচীন ভারতের ইতিহাস’, প্রথম খণ্ড, কলকাতা, ১৯৮৭, প্রথম মুদ্রণ- ১৯৮৩, পৃঃ ৬৮-৬৯
দিলীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়, ‘ভারত ইতিহাসের সন্ধানে’, আদিপর্ব, প্রথম খণ্ড, কলকাতা, ২০০৪, প্রথম প্রকাশ- ২০০০, পৃঃ ১১৭-১১৯
২। ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়, ‘গৌড়বঙ্গের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’, প্রথম খণ্ড, কলকাতা, ২০০৩, পৃঃ- ২৯-৩১, দ্বিতীয় খণ্ড-২০০৫, পৃঃ ১-৮
গোপাল চন্দ্র সিনহা, ‘ভারতবর্ষের ইতিহাস’ (প্রাচীন ও মধ্যযুগ), কলকাতা, ২০০৫, পৃঃ ৫০-৫১ ৩। রোহিনীনাথ মঙ্গল, ‘বিদ্রোহী রাজা শোভা সিংহ’, হরিয়ানা, ১৩৯৮, বঙ্গাব্দ, পৃঃ ১-৮ ৪। পঞ্চানন রায় কাব্যতীর্থ, ‘দাসপুরের ইতিহাস’, বাসুদেবপুর, মেদিনীপুর, ১৩৬৫ বঙ্গাব্দ,পৃঃ ৫
রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১০-১৪ পঞ্চানন চক্রবর্তী, সম্পাদনা, ‘রামেশ্বর রচনাবলী’, কলকাতা, পৃঃ ৫৬-৫৭, ৮৮-৮৯, ৯২, ১০৪ ৫। ঈশ্বরী প্রসাদ, ‘এ শর্ট হিস্ট্রি অব মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া’, এলাহাবাদ, ১৯৮২, পৃঃ ১০৩-১৩১, ১৬৭-১৬৯, ১৭২, ৪৫৭-৪৬১
যোগেশচন্দ্র বসু, ‘মেদিনীপুরের ইতিহাস’, প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, কলকাতা, ১৩৪৬ বঙ্গাব্দ, পৃঃ ৫০৮, ৫৩৫ গৌতম ভদ্র, ‘মুঘল যুগে কৃষি অর্থনীতি ও কৃষক বিদ্রোহ’, কলকাতা, ১৯৮৩, পৃঃ ১৬৬-১৬৭ তরুণদেব ভট্টাচার্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ দর্শন – বাঁকুড়া’, কলকাতা, ১৯৭৯, পৃঃ ৯৮-৯৯, ১০৪-১০৬, ১১২, ১১৪, ১১৮-১২১
৬। মৃগাঙ্কনাথ কর, ‘চন্দ্রকোণার ইতিবৃত্ত’, মেদিনীবাণী পত্রিকা, ভাদ্র সংখ্যা, ১৩৪৬ বঙ্গাব্দ তরুণদেব ভট্টাচার্য, পূর্বোক্ত, পৃঃ পূর্বোক্ত
উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘জ্যোতিরত্ন’, মাসিক বসুমতি, মাঘ সংখ্যা, ১৩৪০ বঙ্গাব্দ কান্তিপ্রসন্ন সেনগুপ্ত, ‘দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস’, মধ্যযুগ, কলকাতা, ১৯৮৭, পৃঃ ৬৮-৬৯, ৭৬-৭৯, ৯৭ গৌরীপদ চট্টোপাধ্যায়, ‘দক্ষিণ পশ্চিমবাংলার ইতিহাস’, প্রথম খণ্ড, মেদিনীপুর, ১৯৮৬, পৃঃ ১৬২-১৬৪, ১৭৬, ১৮০, ১৯১-১৯৪
সুধীর কুমার মিত্র, ‘হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ’, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা, ১৩৮১ বঙ্গাব্দ, পৃঃ ৫৯৫-৫৯৬, ৫৯৯, ৬৩২-৬৩৬, ৬৩৮ শ্যামাপ্রসাদ বসু, ‘অষ্টাদশ শতকের প্রারম্ভে বাঙলা ও বাঙালী’, মেদিনীপুর, ১৩৯৫ বঙ্গাব্দ, পৃঃ ২, ৭-১০, ১০৩-১০৪, ১৩৯-১৪০
অমিয় কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার’, হুগলি, ১৯৭২, পৃঃ ১২৫-১২৭ ড. অতুল সুর, ‘কলকাতার চালচিত্র’, কলকাতা, ১৩৯০, বঙ্গাব্দ পৃঃ ৮
বসন্ত কুমার দাস, স্বাধীনতা সংগ্রামে মেদিনীপুর, প্রথম খণ্ড, ১৯৮০, পৃঃ ১৯
৭। অনিরুদ্ধ রায়, পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৭৯-২৯০
৮। অনিরুদ্ধ রায়, পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৮৯-২৯০
৯। রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১২৪-১২৬
১০। রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১২৮-১২৯
১১। অনিরুদ্ধ রায়, পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৯০
১২। গৌতম ভদ্র, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৬৭-১৬৮
রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৩০
অধ্যাপক প্রণব রায়ের ভাষণের অনুলিপি, উদ্বোধনী স্মরণিকা, ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৯
১৩। রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৩৩
১৪। রোহিনীমাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৩১
১৫। রোহিনীনাথ মঙ্গল, পূর্বোক্ত, পৃঃ ১৩৪

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান